
ইসলামে ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো সালাত ও জাকাত। পবিত্র কোরআন-এর বহু আয়াতে সালাত কায়েম ও জাকাত প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূরা আল-বাকারা (আয়াত: ১১০)-এ আল্লাহ তায়ালা বলেন:
“তোমরা সালাত আদায় করো এবং জাকাত প্রদান করো। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখছেন।”
সূরা আন-নূর (আয়াত: ৫৬)-এ ইরশাদ হয়েছে:
“তোমরা সালাত আদায় করো, জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো-যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পারো।”
কাদের ওপর জাকাত ফরজ?
নিম্নোক্ত শর্ত পূরণ হলে জাকাত ফরজ হয়-
- সুস্থমস্তিষ্ক মুসলমান
- প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ)
- স্বাধীন (আজাদ)
- নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক
(সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার, বাদায়েউস সানায়ে)
কাফিরদের ওপর জাকাত ফরজ নয়। তদ্রূপ অসুস্থমস্তিষ্ক মুসলিম ও নাবালেগের ওপরও জাকাত ফরজ হয় না।
(সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, রদ্দুল মুহতার)
কোন সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ?
১. যেসব সম্পদে জাকাত ফরজ
সব সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ নয়। কেবল নিম্নোক্ত সম্পদে জাকাত ফরজ হয়-
- সোনা ও রুপা
- টাকা-পয়সা
- নির্ধারিত নিয়মে পালিত পশু
- ব্যবসার পণ্য
২. সোনা-রুপার অলংকার
ব্যবহৃত হোক বা না হোক-সর্বাবস্থায় সোনা-রুপার অলংকারে জাকাত ফরজ।
(সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসায়ি)
৩. অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার সামগ্রী
অলংকার ব্যতীত সোনা-রুপার অন্যান্য জিনিসেও জাকাত ফরজ।
৪. কারুকাজে ব্যবহৃত সোনা-রুপা
জামা-কাপড় বা অন্য সামগ্রীতে সোনা-রুপার কারুকাজ থাকলে ব্যবহৃত সোনা-রুপার পরিমাণ হিসাব করে জাকাত দিতে হবে।
৫. সোনা-রুপা ছাড়া অন্যান্য ধাতু
সোনা-রুপা ছাড়া অন্য ধাতুর অলংকারে জাকাত নেই।
হিরা, মণি-মুক্তা ইত্যাদি ব্যবসার পণ্য না হলে সেগুলোতেও জাকাত ফরজ নয়।
৬. নগদ অর্থ ও সঞ্চয়
মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর অতিক্রান্ত হলে জাকাত ফরজ হয়।
- ব্যাংক ব্যালেন্স
- ফিক্সড ডিপোজিট
- বন্ড ও সার্টিফিকেট
এসবের ওপরও জাকাত ফরজ।
৭. জমিয়ে রাখা অর্থ
ব্যবসায় ব্যবহার না করলেও নগদ অর্থে জাকাত ফরজ হয়।
হজ, বাড়ি নির্মাণ বা বিয়ের জন্য সঞ্চিত অর্থও এর অন্তর্ভুক্ত-যদি নিসাব পরিমাণ হয়ে এক বছর অতিবাহিত হয়।
৮. ব্যবসার পণ্য
ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয় করা যেকোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি-যেমন জমি, ফ্ল্যাট, দোকানের মালামাল, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ইত্যাদি-নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত দিতে হবে।
(সূত্র: মুয়াত্তা ইমাম মালেক, সুনানে কুবরা বায়হাকি)
উপসংহার
জাকাত ইসলামের একটি মৌলিক ইবাদত, যা সম্পদের পবিত্রতা ও সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে যথাসময়ে সঠিক হিসাব করে জাকাত আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের কর্তব্য।
তথ্যসূত্র: কালবেলা


