
মৌসুমের বিরতিতে জাতীয় ও পেশাদার ফুটবলারদের শৌখিন টুর্নামেন্ট বা স্থানীয় ম্যাচে ‘ক্ষ্যাপ’ খেলার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। জাতীয় দলের কোনো ফুটবলার অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এ ধরনের ম্যাচে অংশ নিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে বাফুফে ভবনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘এ রকম বিষয় আমাদের সামনে এলে গুরুত্ব দিয়ে দেখব। সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
বাংলাদেশের ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরেই মৌসুমের বিরতিতে ‘ক্ষ্যাপ’ খেলায় জাতীয় ও পেশাদার ফুটবলারদের অংশ নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। সামাজিক বাধ্যবাধকতা, রাজনৈতিক অনুরোধ কিংবা বাড়তি আয়ের আশায় অনেক তারকা ফুটবলারকেও স্থানীয় বা গ্রামাঞ্চলের মাঠে খেলতে দেখা যায়।
তবে অনিয়ন্ত্রিত এসব ম্যাচে চোট পাওয়ার ঝুঁকি থাকায় পেশাদার ফুটবলারদের জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়। গুরুতর চোটে পড়লে ক্লাবের পাশাপাশি জাতীয় দলও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হারাতে পারে।
‘ক্ষ্যাপ’ খেলা নিয়ে সতর্কবার্তার পাশাপাশি দেশের ফুটবলের আগাম পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন বাফুফে সভাপতি।
সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে জাতীয় দলকে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। কিরগিজস্তানের পক্ষ থেকে ম্যাচ খেলার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি ঢাকায় একটি ত্রিদেশীয় বা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও করছে বাফুফে।
জাতীয় দল কমিটির সভায় শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে-বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খেলবে, নাকি বিদেশ সফরে যাবে।
সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোর আগেই ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাফুফে। বর্তমানে তিনটি ক্লাব ফিফার নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ক্লাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে ১০টি ক্লাবকে নিয়েই লিগ আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কয়েকটি ক্লাব বাফুফের সহায়তা চেয়েছে। ফিফার নিয়ম মেনে পার্ট-পেমেন্ট বা কিস্তিতে খেলোয়াড়দের বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘ফিফাকে আমরা চিঠি লিখেছি। কিন্তু ফিফা খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে খুব শক্ত অবস্থানে। পার্ট পেমেন্টের সুযোগ আছে, যারা আমাদের সহায়তা চেয়েছে, এই বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। যারা মনে করেছে দরকার নেই, তারা যোগাযোগ করেনি আমাদের সঙ্গে।’
ফিফার আর্থিক সহায়তায় কক্সবাজারের রামু উপজেলায় আধুনিক টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে বাফুফে। এ জন্য ২৫ একর জমি চাওয়া হলেও সরকার আপাতত ১৫ একর জমি বরাদ্দ দিচ্ছে।
এ বিষয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘সরকার আমাদের ১৫ একর দিচ্ছে। আমরা জমির মিউটেশন বাবদ ১ লাখ টাকা দেব। জমি বাফুফের নামে হলে ফিফার সঙ্গে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় আগাব।’
সম্প্রতি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাব এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের সমর্থন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এ প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে বাফুফে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে বাতিল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বলারও কিছু নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিলে নির্বাহী কমিটির সভার মাধ্যমে নেই এবং আপনাদের জানাই। যেহেতু ইতোমধ্যে প্রকল্প বাতিল হয়েছে, এ নিয়ে আর কিছু বলার নেই। আমরা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’
তথ্যসূত্র: চ্যানেল ২৪



