খেলাধুলাফুটবল

চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে “ম্যানচেস্টার সিটি’র স্বপ্ন পূরণ

অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হল ম্যানচেস্টার সিটির। শনিবার ইস্তানবুলের আতাতুর্ক অলিম্পিক স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ম্যাড়মেড়ে প্রথমার্ধের পর প্রতিপক্ষের মুহূর্তের দুর্বলতায় ডেডলক ভাঙেন রদ্রি। পরে ব্যবধান ধরে রেখে ম্যাচের শেষটাও দারুণ করে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা। এরফলে ইউরোপ সেরার মুকুট মাথায় তুলে দলটি পূরণ করল ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন। 

শনিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ১-০ গোলে হারিয়েছে সিটি। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপ জিতে আগেই ঘরোয়া ‘ডাবল’ পূর্ণ করে সিটি। এবার ইউরোপ সেরা হয়ে ‘ট্রেবলের’ স্বপ্নও পূরণ করল তারা। ইংলিশ ফুটবলে দ্বিতীয় এবং ১৯৯৯ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর প্রথম দল হিসেবে এই অসাধারণ কীর্তি গড়ল তারা।

ট্রেবল জয়ের হাতছানি আগে থেকেই ছিল সিটির সামনে। যে কারণে শনিবার রাতে মাঠের ফুটবলে খেলতে নেমে শুরুতে কিছুটা হলেও চাপ অনুভব করছিল দলটি। যে কারণেই কি না  ডে ব্রুইনে-গ্রিলিশদের পায়ে কিছুটা হলেও ভর করেছিল জড়তা। এ সুযোগে প্রথম ২৫ মিনিটে ইন্টারই বরং তুলনামূলক উজ্জীবিত ছিল। তবে ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ অবশ্য তৈরি করে সিটিই। ডে ব্রুইনের পাস ধরে ক্ষিপ্রতায় ডি-বক্সে ঢুকে দুরূহ কোণ থেকে শট নেন আর্লিং হলান্ড, শরীর দিয়ে কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক আন্দ্রে ওনানা।

৩০তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ট্যাকলে পায়ে আঘাত পান ডে ব্রুইনে। মাঠেই কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে খেলা শুরু করেন তিনি, তবে তার চোখে-মুখে অস্বস্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট। ছয় মিনিট পর একরকম বাধ্য হয়ে উঠে যান তিনি, বদলি নামেন ফিল ফোডেন। দলের সেরা তারকার এভাবে প্রথমার্ধেই ছিটকে পড়া সিটির জন্য অনেক বড় ধাক্কা। 

বিরতির পরও ম্যাচ চলতে থাকে ম্যাড় ম্যাড়েই। তবে ইন্টারের জমাট রক্ষণ ৬৮তম মিনিটে মুহূর্তের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে। আর ওই ফাঁকেই কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করে নেয় সিটি। আকানজির পাস পেয়ে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে শট নেন বের্নার্দো সিলভা। প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে বল পেনাল্টি স্পটের কাছে ফাঁকায় চলে যায়, আশেপাশেই ছিলেন ইন্টারের কয়েকজন খেলোয়াড়, কিন্তু কেউ যথেষ্ট রিফ্লেক্স দেখাতে পারেননি। ছুটে গিয়ে বিনা বাধায় জোরাল শটে বল জালে পাঠান রদ্রি। দুই মিনিট পরই সমতায় ফিরতে পারতো ইন্টার। কিন্তু ফেদেরিকো দিমার্কোর হেড বাধা পায় ক্রসবারে। 

ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ নষ্ট করে সিটি। বক্সে বাঁ থেকে সতীর্থের হেড একেবারে গোলমুখে পেয়ে যান লুকাকু, সামনে একমাত্র বাধা ছিলেন এদেরসন। হেডে সেই তার পায়েই মেরে বসেন বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড।  পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের একেবারে শেষেও একটা সুযোগ আসে তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের সামনে। কিন্তু রবিন গোজেন্সের হেড ঠেকিয়ে জাল অক্ষত রাখেন এদেরসন। নিশ্চিত হয়ে যায় সিটির শিরোপা জয়। এরপর রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো সিটি শিবির।  প্রথমবারের মতো ইউরোপ জয় আনন্দ তো হবেই বিশ্ব জয়ের মতই। ঠিক সেটাই হয়েছে শনিবার রাতে। 

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button