আদমদিঘী উপজেলাবগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় পাতিলে রেণু পোনা বহন করে ভাগ্য বদল, স্বাবলম্বী দুই হাজার পরিবার

রিপন দাস, বগুড়া : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় একসময় যেসব পরিবারের সংসারে অভাব-অনটন আর দারিদ্র্য ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী, তাদের অনেকের জীবন এখন বদলে গেছে মাছের রেণু পোনা ব্যবসায়। পাতিলে রেণু পোনা বহন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিয়ে আয় করছেন তারা। এতে অন্যের জমিতে কামলা দেওয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে, স্বাচ্ছন্দ্য ফিরেছে সংসারে।

পশ্চিম বগুড়ার ‘মাছের ভান্ডার’ হিসেবে পরিচিত আদমদীঘিতে পাতিলে মাছের রেণু পোনা বহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। তাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট আরও ১০ হাজারের বেশি পরিবার এ পেশার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রেণু পোনা ব্যবসায়ী রাজ্জাক, খলিল, রইচ, আলতাফ, শহিদুল ও আলীমসহ অনেকেই জানান, অল্প পুঁজি নিয়ে তারা পাতিলে রেণু পোনা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান। ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ঢাকা, টাঙ্গাইল, সিলেট, পার্বতীপুর, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে তারা রেণু পোনা বিক্রি করেন।
শুধু দেশের বিভিন্ন শহর নয়, পাতিলে করে রেণু পোনার ভার কাঁধে নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের পুকুরেও পৌঁছে দেন তারা। এভাবে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। কারও কারও আয় এর চেয়েও বেশি।

ব্যবসায়ীরা জানান, একসময় দিনমজুরি কিংবা অন্যের জমিতে মজুরি খেটে সংসার চালাতে হতো। এখন রেণু পোনা বিক্রি ও বহনের আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি অনেকেই ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। কেউ কিনেছেন রঙিন টেলিভিশন, ফ্রিজসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। আবার কেউ আয় করা টাকা জমিয়ে পুকুর পত্তন নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠেছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু রেণু পোনা বহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত দুই হাজারের বেশি মানুষই নন, এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পরিবহন, মাছ চাষ, পুকুর ইজারা, পোনা উৎপাদন ও বিক্রিসহ নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন আরও ১০ হাজারের বেশি পরিবারের সদস্য। ফলে রেণু পোনা ব্যবসা আদমদীঘির গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আদমদীঘির বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী ও হ্যাচারি মালিক বেলাল হোসেন সরদার বলেন, উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক মৎস্য হ্যাচারি রয়েছে। এসব হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেণু পোনা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
তিনি বলেন, মাছের ঘাটতি পূরণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এলাকার অনেক শিক্ষিত বেকার চাকরি না পেয়ে পুকুর, ডোবা ও নালায় মাছ চাষের পাশাপাশি রেণু পোনা বিক্রি ও বহনের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। এ পেশার মাধ্যমে অনেকেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, অল্প পুঁজি, পরিশ্রম ও ঝুঁকি নিয়ে শুরু করা রেণু পোনা ব্যবসা এখন আদমদীঘির অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এ ব্যবসা এলাকার মৎস্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করছে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button