শিক্ষা
প্রধান খবর

এসএসসিতে পাস কম, একাদশে ফাঁকা থাকবে সাড়ে ১৩ লাখ আসন

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়ায় এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পরও দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ আসন ফাঁকা পড়ে থাকবে। তবে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় এবার কোনো পরিবর্তন আসছে না। আগের নিয়মেই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমের বিষয়ে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

তিনি জানান, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও কোনো লটারি বা ভর্তি পরীক্ষা হবে না। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল এবং শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমের ভিত্তিতেই কলেজে ভর্তির জন্য আসন বরাদ্দ করা হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভর্তি কার্যক্রম আগের মতোই। লটারিও না, ভর্তি পরীক্ষাও না। প্রচলিত যে বিধান, অর্থাৎ জিপিএ এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদার (পছন্দক্রম) ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ হবে।’

গত কয়েক বছর ধরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারেন।

পরে শিক্ষার্থীর ফলাফল, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা এবং পছন্দক্রম বিবেচনায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।

কলেজ ও মাদ্রাসায় এ পদ্ধতিতেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ভর্তি নিলেও দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে এ অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

পাস কম, বাড়বে খালি আসন

সারাদেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গত বছর মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল। ফলে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ আসন ফাঁকা ছিল।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার আরও কম হওয়ায় খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকবে। তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ সব বোর্ডের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলে খালি আসনের সংখ্যা কিছুটা কমবে। তারপরও বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থেকে যাবে।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘২০২৫ সালে যত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল, তাদের তুলনায় ২০২৬ সালে ভর্তির ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা কিছু বেশি শূন্য থাকবে।’

ফলে এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে আসন সংকটের আশঙ্কা নেই। বরং শিক্ষার্থীর তুলনায় কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে অতিরিক্ত আসনের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: বার্তা ২৪

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button