
সৌদি আরবে হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি এবং রাশিয়া থেকে বাড়তি ডিজেল সরবরাহের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো দাম কমার পথে রয়েছে তেলের বাজার। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ভোর ৩টা ২৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ১ ডলার ৩০ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ১ ডলার ২৫ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৪৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।
এর আগের কার্যদিবসে উভয় মানদণ্ডের তেলের দাম প্রায় ২ ডলার করে বেড়েছিল। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৫ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে স্থির হয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া বৈশ্বিক বাজারে ডিজেল সরবরাহে সম্মত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর রাজস্ব কমানোর লক্ষ্যে রুশ জ্বালানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তাঁর প্রশাসন সাময়িকভাবে শিথিল করেছে। বাড়তি সরবরাহ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সংকট কমাতে সহায়তা করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এই সরবরাহসংকটই অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে সহায়তা করছিল।
তবে আইএনজি-র বিশ্লেষকেরা এক নোটে জানিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের ঘোষণার পর রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে-এমন খবর পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
এদিকে, সপ্তাহান্তে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানোর পর উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলের পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে ট্যাংকারে হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
এসব ঘটনা সেপ্টেম্বরে দেখা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও বেড়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, রাশিয়া থেকে নতুন করে ডিজেল সরবরাহ এবং সৌদি আরব থেকে জ্বালানি সরবরাহ কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় বাজারে সাময়িক স্বস্তি এসেছে। তবে বাড়তি তেল সরবরাহের আশ্বাসের চেয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ বা পাইপলাইনে আরও হামলার ঝুঁকি নিয়ে বাজার বেশি উদ্বিগ্ন।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন



