
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন-এমন তথ্য ইসরাইল নিজেই স্বীকার করেছে। দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একাধিক ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
এর আগে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিল ইসরাইল। যদিও জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরেই গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নিহতের তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। ইসরাইলের দাবি ছিল, হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্বাসযোগ্য নয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত নিহতদের নাম ও বয়সসহ তালিকা প্রকাশ করে থাকে। তাদের সর্বশেষ হিসাবে বলা হয়েছে, মোট নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে-
- যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় ৪৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন
- আরও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন
- নিহতদের মধ্যে বেসামরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা করে চিহ্নিত করা না হলেও অধিকাংশই নারী ও শিশু
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর স্বীকারোক্তি
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজসহ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও প্রায় একই ধরনের নিহতের হিসাব মেনে নিয়েছে।
ওয়াইনেটকে এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন,
“আমাদের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধে প্রায় ৭০ হাজার গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। এতে নিখোঁজ ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত নন। নিহতদের মধ্যে কারা সন্ত্রাসী ছিলেন আর কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন না-এটি নির্ধারণে আমরা কাজ করছি।”
আইডিএফের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে চাইলে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী আইডিএফ জানায়,
“এই বিষয়ে যেকোনো তথ্য বা প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিক ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।”
তথ্যসূত্র: যুগান্তর


