জাতীয়

প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা সংক্রমণ: বিপদের শঙ্কায় বাংলাদেশ

স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই, প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ নিজের-পরিবার-দেশের স্বার্থে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার তাগিদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন দেশের মতো বড় অঙ্কের জরিমানা করার তাগিদ

মানুষের মধ্যে গত কয়েক মাস থেকে মাস্ক ব্যবহারে অনীহা, ব্যাপকভাবে সামাজিক অনুষ্ঠান পালন, বেপরোয়া চলাফেরা ও সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। আর তাই হঠাৎ করেই করোনার সংক্রমণ ও হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে চুক্তি অনুযায়ী সিরামের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার যে পরিমাণ বাংলাদেশকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি করে, বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি ভারত। সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় দেশে চাহিদা অনুযায়ী টিকার সংস্থানও করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি কখন টিকা পাচ্ছি তারও সঠিক কোন তথ্য জানাতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদফতর। একদিকে সংক্রমণ বাড়ছে, অপরদিকে চাহিদা অনুযায়ী টিকা না পাওয়ায় প্রতিদিনই মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের আইসিইউগুলোতে আসন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যাবধানেই বড় ধরনের এই পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন চিকিৎসকরা। আর স্বাস্থ্যবিধি না মানায় প্রতিদিনই করোনা পরিস্থিতি ঘোলাটে হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে না মানা গেলে দেশে ভয়াবহ আকারে করোনা ছড়াতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংক্রমণ বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, কয়েকদিন ধরে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সামাজিক অনুষ্ঠান ও মানুষের বেপরোয়া চলাফেরার কারণে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে বলেও মনে করেন তিনি। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করার তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশে করোনার সংক্রমণের হার বেড়ে চলছে। হাসপাতালে রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক রোগীর অবস্থা ভালো নয়। আর তাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিজের, পরিবারের এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়ে বলেছেন, জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলা এবং সামাজিক অনুষ্ঠান সীমিত করতে হবে। এমনকি এখন অনুষ্ঠান না করারও তাগিদ দেন।

এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল বাশার মো. খুরশীদ আলম বলেছেন, সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে দেশ বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গেল দুই মাস স্বস্তিতে থাকায়, কেউ এখন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এমনকি তার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, নতুন করে আক্রান্তদের বেশিরভাগই তরুণ, তাদের অধিকাংশেরই আইসিইউ লাগছে।

তিনি বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হওয়ায় আবারও কঠোর স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা দিতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের সমস্ত হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখতে প্রশাসনসহ সিভিল সার্জন অফিসগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সারা দেশে আইসিইউগুলো প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। গতকাল বিকেলে সিভিল সার্জনদের সঙ্গে সভায় নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মহাপরিচালক বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি জোরদার করতে এরই মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাই উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরাও। তাদের মতে, মহামারীর ভয়াবহতা থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে এখনই স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা উচিত। এমনকি স্বাস্থ্যবিধি না মানলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বড় অঙ্কের জরিমানা করারও তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে করোনা মোকাবিলায় আবারও দেশের সমস্ত হাসপাতাল ও আইসিইউ প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। এছাড়াও চুক্তি অনুযায়ি বাংলাদেশের প্রাপ্ত টিকা দ্রুত পাওয়ার জন্য সিরামকে চাপ প্রয়োগ করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, মানুষের মাঝে এখন টিকা নেয়ার আগ্রহ যে হারে বাড়ছে, তাতে টিকার যোগানে ঘাটতি হলে চাহিদা সামলানো কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে যারা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন, তাদের সময়মতো টিকা দেয়ার জন্য একই পরিমান দ্বিতীয় ডোজ রেখে দিতে হবে। দ্বিতীয় ডোজ শুরু হচ্ছে আগামী ৭ এপ্রিল। আর তাই চুক্তি অনুযায়ী সিরাম থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা না পেলে বাংলাদেশের জন্য টিকা কার্যক্রম নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button