ধর্ম
প্রধান খবর

শবে বরাত: আজ রাতে যেভাবে আমল করতে পারেন

আরবি অষ্টম মাস শাবানের চৌদ্দতম তারিখ দিবাগত রাতই পবিত্র শবেবরাত। সূর্যাস্তের পর থেকে শেষ রাত পর্যন্ত মহান আল্লাহ পৃথিবীর প্রথম আকাশে নেমে এসে তাঁর বান্দাদের উদ্দেশে ডাকতে থাকেন-

“কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছ কি? আমার কাছে ক্ষমা চাও-আমি ক্ষমা করে দেব।
কারও রিজিকের প্রয়োজন আছে কি? আমার কাছে চাও-আমি রিজিক দেব।
কোনো বিপদগ্রস্ত আছ কি? আমার কাছে মুক্তি চাও-আমি বিপদমুক্ত করে দেব।”

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

“নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়।”
-(সূরা দুখান: ২-৩)

বিখ্যাত তাফসিরকারদের মতে, এখানে উল্লিখিত ‘বরকতময় রাত’ বলতে শবেবরাতকেই বোঝানো হয়েছে। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং শবেকদরের রাতে নির্দিষ্ট ফেরেশতাদের সে দায়িত্ব অর্পণ করেন (তাফসিরে কুরতুবি)।

যে আমলে কাটবে শবেবরাত

আলেমদের মতে, এ পবিত্র রজনিতে অপ্রয়োজনে সময় নষ্ট না করে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা উচিত। এ রাতে করা যেতে পারে-

  • তাহিয়্যাতুল অজু
  • দুখুলিল মাসজিদ
  • আওয়াবিন
  • তাহাজ্জুদ
  • সালাতুত তাসবিহ
  • সালাতুল হাজাতসহ অন্যান্য নফল নামাজ

নফল ইবাদতের মধ্যে নামাজ সর্বশ্রেষ্ঠ। প্রতিটি নফল নামাজের জন্য নতুন অজু করা মুস্তাহাব। ধীরগতিতে কিরাত পড়া, রুকু ও সেজদা দীর্ঘ করা এবং অধিক পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত করা উত্তম।

এ ছাড়া বেশি বেশি দরুদ শরিফ, তাওবা-ইস্তিগফার, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার করা এবং নিজের জন্য, পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন, সকল মুমিন মুসলমান ও দেশ-জাতির কল্যাণে দোয়া করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

কবর জিয়ারত ও ইবাদতের সঠিক পদ্ধতি

শবেবরাতে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, দান-সদকা, উমরি কাজা নামাজ ও কবর জিয়ারত করা যেতে পারে। তবে কবর জিয়ারতকে রেওয়াজ বা আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত করা যাবে না।

রাসূল (সা.) একাকী ও নিঃশব্দে জান্নাতুল বাকিতে কবর জিয়ারত করেছেন। তিনি এ বিষয়ে কাউকে বাধ্য করেননি। তাই দলবদ্ধভাবে নয়, একান্ত ব্যক্তিগতভাবে কবর জিয়ারতে কোনো বাধা নেই।

মসজিদে সমবেতভাবে ইবাদত করা আবশ্যক নয়। জামাত ও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সামর্থ্য অনুযায়ী একাকী ইবাদত করাই উত্তম।

যেসব কাজ পরিহার করা জরুরি

ইসলামে শবেবরাতের জন্য কোনো নির্দিষ্ট নামাজ, নির্দিষ্ট রাকাত বা সূরা নির্ধারিত নেই। তাই শবেবরাতের নামে-

  • আতশবাজি ও ফটকাবাজি
  • ঘরবাড়ি ও মসজিদে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা
  • মোমবাতি, আগরবাতি, মরিচলাইট
  • কবরে ফুল, গোলাপজল অর্পণ
  • খিচুড়ি, হালুয়া-রুটি, তাবারুক রান্না ও বিতরণ
  • রাস্তাঘাটে আড্ডা ও অনর্থক ভিড়

এসব কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এগুলো ইসলাম পরিপন্থি বলে মত দিয়েছেন আলেমরা।

ক্ষমা ও ভাগ্য পরিবর্তনের শ্রেষ্ঠ রাত

শবেবরাত হলো পাপ মোচন, ভাগ্যোন্নয়ন ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। এ রাতে আন্তরিক তাওবা করে নিজের সব গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং মৃত আত্মীয়দের মাগফিরাত কামনা করাই হওয়া উচিত প্রতিটি মুমিনের প্রধান লক্ষ্য।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button